ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ , ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবজি বিক্রেতা হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৮-০৭-২০২৬ ০৪:১৬:৫৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৮-০৭-২০২৬ ০৪:১৬:৫৬ অপরাহ্ন
সবজি বিক্রেতা হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড ছবি : সংগৃহীত
ফরিদপুরে ফয়সাল শেখ (২২) নামে এক সবজি বিক্রেতাকে হত্যা মামলায় তিন জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ বদিউজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার আইয়ুব আলী সরদারের ছেলে চান সরদার (৪২) ও তারা সরদার (৩৫), জিয়াউল হক আকন্দের ছেলে বাবুল আকন্দ (৩৬)। তাদের মধ্যে রায় ঘোষণার সময় বাবুল আকন্দ উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া পলাতক দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ বছর আগে ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনে ফয়সাল শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি ফরিদপুর শহরের মধ্য আলীপুর এলাকার মৃত আকু শেখের ছেলে। এ ঘটনার পরদিন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় চাঁন সরদার, তারা সরদার ও শাহিন সরদারের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন নিহতের মা ফিরোজা বেগম।

মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ফয়সাল শহরের হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজারের বেইলী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার সবজি বিক্রেতা ছিলেন। এ ছাড়া আসামি চাঁন সরদার আড়তে লেবারের কাজ করতেন। ঘটনার আগে তার ছেলে ফয়সালের সঙ্গে আসামি চাঁন সরদারের মনোমালিন্যের জেরে বাগবিতণ্ডা হয়। এর মধ্যে ঘটনার দিন দুপুরে ফয়সাল শেখ ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় পৌঁছালে তাকে কৌশলে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে ডেকে নিয়ে যান চাঁন সরদার। সেখানে ওতপেতে থাকা অন্য আসামিরা এলোপাতাড়িভাবে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালের নেওয়া হলে তাৎক্ষণিক ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান।

আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে, এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ফরিদপুর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক শাহজাহান মিয়া। তিনি ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই চার আসামির নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। তাতে উল্লেখিত তিন জন আসামিসহ তদন্তপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে বাবুল আকন্দের নাম সংযুক্ত করেন। এ মামলার শুনানি চলাকালে শাহিন সরদার (২২) মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান (খোকন) বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যে আদালতে হত্যাকাণ্ডটি সন্দেহতীতভাব প্রমাণিত হয় এবং তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামি মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি দুই জন পলাতক রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ